ডা. এম.এ পারভেজ বিগত ২০ বছর ধরে ইউনানি চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি কলকাতা ইউনানি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিনের অধ্যাপক এবং মেডিসিন বিভাগের প্রধান। ইউনানি চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসা নিয়ে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আসিফ রেজা আনসারী
প্রশ্ন: বর্তমান পরিবর্তিত সময়ে ইউনানি চিকিৎসার গুরুত্ব কতোটা?
–আসলে আমাদের চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে প্রাকৃতিক। মানব শরীরের বিভিন্ন ফ্লুয়েডের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে রোগ–বালাই হয়। আমরা হিউমারাল তত্ত্ব বা হিউমোরালিজম অনুসারে চারটি শারীরিক তরল যেমন রক্ত, হলুদ পিত্ত, কালো পিত্ত, কফ এবং একজন ব্যক্তির মেজাজ নির্ধারণ করে ভারসাম্যহীনতা দূর করে চিকিৎসা করি। ফলে কঠিন রোগ তেমন পাইলস, ফিসার, ফিসচুলা, চর্মরোগ, সোরিয়াসিস, গাঁটের ব্যথা ইত্যাদি সারাতে ইউনানি অব্যর্থ।
প্রশ্ন: আপনাদের ইউনানির চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে যদি কিছু বলেন?
–আমরা কিউরেটিভ ট্রিটমেন্টের উপর বেশি জোর দিই।খাদ্যাভ্যাস, জীবনশৈলী, পর্যাপ্ত ঘুম, দেহ ও মনের সঠিক বিশ্রাম, শরীরের ডিটক্সিফিকেশন বা শরীরকে বিষমুক্ত করা ইত্যাদিই আমাদের চিকিৎসা পদ্ধতির একটা বড় অংশ।
প্রশ্ন: অন্যান্য পদ্ধতির থেকে আপনাদের অন্যন্যতা কোথায়?
–আমরা মানুষের মেজাজ দেখে ব্যক্তিনির্ভর চিকিৎসার উপর জোর দিই। একই অসুখ নিয়ে পাঁচজন আসলে আমাদের পদ্ধতিতে আলাদা আলাদাভাবে চিকিৎসা করা হয়। রোগীর কেস-হিস্ট্রি, মেজাজ, বিভিন্ন ফ্লুয়েডের ভারসাম্য ইত্যাদি দেখে চিকিৎসা হয়, সিম্পটম বা উপসর্গ এখানে কিছুটা হলেও কম গুরুত্ব পায়।
প্রশ্ন: বিজ্ঞানের উন্নতির যুগে ইউনানি চিকিৎসা পদ্ধতি বিশ্বজনীন কতোটা গ্রহনযোগ্য?
–মানুষের অসুখ তৈরির পেছনে জীবনশৈলীর পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাস, প্রকৃতি বিমুখ চলাফেরা ইত্যাদি সম্পর্কে অনেক গবেষণা হচ্ছে। আমাদের পদ্ধতির প্রতি আস্থা বাড়ছে। মানুষ প্রাকৃতিক চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছে।
প্রশ্ন: রাজ্য বা কেন্দ্র কতোটা সাপোর্ট করছে?
–আমাদের ইউনানির প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে। আয়ুসের অন্যান্য শাখার মধ্যে ইউনানির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পেছনে সরকারের ভূমিকা আছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নানা পদক্ষেপ আমাদের উপকারে আসছে। ইউজি, পিজি, পিএইচডি হচ্ছে। অনেক গবেষণাপত্র আছে। আন্তর্জাতিকস্তরে এর বিকাশ ও গ্রহনযোগ্যা আরও অনেক বাড়বে বলেই মনে হয়।
প্রশ্ন: কোন কোন অসুখ নিয়ে মানুষ আপনাদের কাছে আসছে?
–সব রোগেরই চিকিৎসা করা হয়। তবে পাইলস, ফিসচুলা, ফিসার, থায়রয়েড, আর্থ্রাইটিস, সোরিয়াসিস, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগ সহজে সারছে। আমরা ওসুষ যেমন দিই তেমন, ডায়েট নিয়ে একটা গাইডলাইন দিয়ে থাকি। এর মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন তরলের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা হয় ও অসুখ সারে।
প্রশ্ন: ফাস্টফুড নিয়ে কি বলবেন?
–আসলে ফাস্টফুড মানে টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাওয়া। রোল, পিৎজা, বার্গার, হটডগ ইত্যাদি না খেয়ে মুড়ি, সামান্য তেলেভাজা, বাদাম ইত্যাদি খাওয়া ভালো। এটা করতে পারলে অনেক অসুখ এমনিতেই পালাবে। এটা না করতে পারলে প্রতি দশজনের মধ্যে আটজনের ক্যানসারের মতো রোগ বাসা বাঁধবে।
প্রশ্ন: যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়, তাদের জন্য আপনার কোনও পরিকল্পনা?
– যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয় কিংবা দূরে বাড়ি তাদের আমি বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ দেব। এর জন্য রোজ সকাল ৭টা থেকে ৯টা এবং রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ৬২৯১৭৫৮৫৬৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।
(সৌজন্যে পুবের কলম)

0 Comments