বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: রাজ্যে নিয়োগ পরীক্ষার দুর্নীতি নিয়ে যখন তোলপাড় রাজনীতি, তখন প্রকাশ্যে কাস্ট সার্টিফিকেট দুর্নীতি। নিট কাউন্সিলিংয়ে 'সন্দেহজনক' জাতিগত সংশাপত্র ব্যবহার করে ভর্তি নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিক্ষা ও প্রশাসনিক মহলে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগ থেকে সরাসরি স্বাস্থ্যভবনে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
![]() |
| স্বাস্থ্য ভবন |
জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে ট্রাইবাল অ্যাডভাইসারি কাউন্সিলের বৈঠকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ করা হয় যে, এসসি, এসটি না হয়েও বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার সংরক্ষণের তালিকায় নাম ঢুকে যাচ্ছে প্রার্থীদের। অভিযোগ এনেছিলেন মন্ত্রীসভারই এক সদস্য। সূত্রের খবর, তিনি রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই মুখ্যসচিবকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের তরফে স্বাস্থ্যশিক্ষা দফতরকে জানানো হয়েছে, তাঁদের কাছে এমন একটি প্রতিনিধি সংগঠনের চিঠি এসেছে যেখানে 'সন্দেহজনক' নামের তালিকা দেওয়া আছে। মোট ৪৫ জন পরীক্ষার্থীর নাম ওই তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ, এঁরা নাকি নিজেদের এসটি দেখিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আর সেটা যদি সত্যি হয় তাহলে তা বড় জালিয়াতি তো বটেই, আইনি অপরাধও।
দফতরের পাঠানো নথিতে স্বাস্থ্যভবনকে বলা হয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে দ্রুত তদন্ত শুরু করতে হবে এবং প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কোন কোন প্রার্থী এহেন সন্দেহজনক শংসাপত্র ব্যবহার করেছেন, তা যাচাই করাই হবে তদন্তের মূল উদ্দেশ্য। অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। কারণ, মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ায় যদি কোনও রকম 'ভুয়ো' সার্টিফিকেটের ব্যবহার থেকে থাকে, তাহলে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে পারে। তবে স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, এসটি, এসসি বিষয়টা দেখে পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগও। তারাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আমরাও ক্ষতিয়ে দেখব।
তবে, দ্য ওয়ালের হাতে সেই ৪৫ জনের নামের তালিকা থাকলেও, তা আপাতত প্রকাশ করা নীতিবিরুদ্ধ। সরকারি তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই স্পষ্ট হবে আসল সত্য। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে।

0 Comments