বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: পরিযায়এ শ্রমিকদের নির্যাতন, এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনের কাণ্ডকারখানায় গেরুয়া শিবির ল্যাজে-গোবরে। তাই ইস্যু ঘোরাতে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে বিজেপি। দেশজুড়ে বিরোধী রাজনীতি শিবির শক্তিশালী হচ্ছে, তাই বিকল্প পন্থা নিচ্ছে তারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই বক্তব্য পেশ করছেন লোকজন। পুরানো ছবি দেখিয়ে কেউ কেউ লিখছেন রাহুল গান্ধির সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে খারাপ কথা প্রচারকারী বিজেপির কর্মী। যদিও গেরুয়া শিবির প্রতিক্রিয়া দেয়নি। দলের তরফ মেমোদিকে নিয়ে করা মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে।
লেখক ও সমাজকর্মী সুমন সেনগুপ্ত তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, "কিছু কথা পরিষ্কার করে বুঝে নেওয়া জরুরি।
১। বিহারের ভোটার অধিকার যাত্রায় মানুষের এই স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ওঁদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ফলত পাকিস্তানের জঙ্গীরাও সোজা বিহারে ঢুকে পড়ছে, এবং অমিত শাহের কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ বর্ডারে খৈনি ডলছে তাই চোখে পড়ছে না। মূল উদ্দেশ্য এই যাত্রা পণ্ড করা।
২। এক মুসলমান বিজেপি কর্মীকে দিয়ে একটি সভায় নরেন্দ্র মোদীর নামে অশ্রাব্য গালিগালাজ করানো হয়েছে, যার পরিণতিতে বিজেপি কর্মীরা পাটনা এবং কলকাতায় কংগ্রেস অফিসে হামলা করেছে। মূল উদ্দেশ্য যাত্রা থেকে নজর ঘোরানো।
৩। একটি গোদি মিডিয়া চ্যানেল থেকে হঠাৎ ‘মুড অফ দি নেশন’ সার্ভে করিয়ে দেখানো হয়েছে, এখনো নাকি মোদীকে ৫২ শতাংশ লোক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাইছেন। মূল উদ্দেশ্য রাহুল গান্ধীকে এবং তাঁর এই ভোটার অধিকার যাত্রার কোনও ইমপ্যাক্ট নেই সেটা দেখানো।
৪। নির্বাচন কমিশনের একের পর এক মিথ্যে ধরা পড়ছে। ২০০৩ সালে নাকি শেষবার এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনী হয়েছিল বলেছে কমিশন। একটি RTI করার উত্তরে বলেছে, না সেই তথ্য তাঁদের কাছে নেই। আগামী ৮ তারিখে সুপ্রীম কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা ছিল, এগিয়ে ১ তারিখ আনা হয়েছে। সুতরাং যত বেশী বেশী করে এই সব বিষয়ে কথা বলবেন, তত বেশী চাপ তৈরী হবে কমিশন এবং কোর্টের ওপর।
আজ কংগ্রেস অফিসে হামলা করেছে বিজেপি’র গুন্ডারা। কাল বামেদের অফিসে করবে, পরশু তৃণমূলের অফিস ও ছাড় পাবে না। সুতরাং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশের উচিৎ এক্ষুণি ঐ গুন্ডা রাকেশ সিংকে গ্রেপ্তার করা। এই সময়টা কঠিন। এই সময়টা একসাথে পেরোতে হবে। ওঁরা ২৪০ পেয়েই এই দাঁত-নখ বের করছে। হারার আভাস পেলে কী করবে বুঝে নিন। নির্বাচন কমিশনকে চাপ দিতে হবে এবং প্রতি BLO যাতে ঠিকমতো কাজ করে তার জন্য BLA দের সজাগ থাকতে হবে। লড়াইটা সংবিধান বাঁচানোর, লড়াইটা ভোটাধিকার বাঁচানোর, লড়াইটা নাগরিকত্ব বাঁচানোর। সত্যের জয় হবেই।"
![]() |
| ছবি নিয়ে বিতর্ক। যদিও বিজেপি কর্মী পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে। |
অন্যদিকে একটি ছবি সমাজমাধ্যমে দিয়ে আইনজীবী আনিসুর রহমান লিখছেন, "নেক রিজভি। বিজেপির শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে। বিজেপির এই নেক রিজভী বিহারে রাহল গান্ধীর সভায় মোদীকে গালাগাল করায় বিজেপির লোকজন বিভিন্ন জায়গায় কংগ্রেসের অফিসে হামলা চালাচ্ছে। আসলে রাহুল গান্ধীর ভোটার অধিকার যাত্রায় বিজেপির ঘুম ছুটে যাওয়ায় বিজেপি এসব করছে।"
এ দিকে কেউ কেউ বলছেন, ছবিটি জাল কিংবা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হতে পারে। যদিও সময় আসল কথা বলবে। কারণ, বিজেপি কর্মী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর ছবি ব্যবহার করে বদনাম করা হচ্ছে। তিনি কোনোভাবেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন।

0 Comments