আত্মপক্ষ সমর্থন ছাড়াই সাংসদপদ খারিজ মহুয়ার, সরব হিন্দু মহাসভা

বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: পার্লামেন্টে বেশ কিছু প্রশ্ন করায় রোষের মুখে পড়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ইতিমধ্যে তার সাংসদ পথ বাতিল করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে সরব হল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। সংগঠনের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার বিষয় হোক, বিশ্বকাপ ক্রিকেট ফাইনালে ভারতের পরাজয়ে বাংলাদেশের একটি অংশের মানুষের পাশবিক আনন্দের ফলে ভারতবাসীর দুঃখ পাওয়ার বিষয় হোক বা নাথুরাম গডসের 'হোয়াই কিলড গান্ধি' বইটি প্রচার করে ভারতবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হোক....  আমরা অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা সব সময় জনতার কণ্ঠ বা ফ্রিডম অফ স্পিচের পক্ষে।

সংগঠনের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামী বলেন, আমি একবারও বলছিনা মহুয়া যে অভিযোগে অভিযুক্ত সেটা যদি প্রমাণিত হয় তাহলেও তাঁকে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা সমর্থন করবে । কিন্ত এখানে অবশ্যই আমাদের দুটি প্রশ্ন আছে, মহুয়া যাদেরকে তথ্য সরবরাহ করেছেন বলে অভিযোগ সেই ধনকুবেররাও তো তথ্য নিয়েছেন । তাদের তথ্য তো আমাদের সামনে আনা হচ্ছে না । ঘুষ নেওয়া আর দেওয়া দুটোই যদি অপরাধ হয় তাহলে কেন যারা ঘুষ দিল তাদের নাম প্রচারের আলোয় আনা হবে না ? তারা কি দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে বিপজ্জনক নয় ? দ্বিতীয়ত আমরা জানতে চাই যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তাকে সংসদ ভবনে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবেনা কেন ? এটা কি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কণ্ঠ রোধ করা নয়?


তিনি আরও বলেন, আমরা ১০  ডিসেম্বর রবীন্দ্রসদন রানুছায়া মঞ্চ এবং কলেজ স্কোয়ারের বাংলাদেশ বইমেলায় যাচ্ছি প্রতিনিধি মন্ডল এবং সমর্থকদের নিয়ে। আমরা মেলার আয়োজকদের জন্য অবশ্যই নিয়ে যাচ্ছি ভালোবাসার পুষ্পস্তবক, সুস্বাদু মিষ্টান্ন আর একটি যন্ত্রণার চিঠি । চিঠিতে আমাদের অবশ্যই উল্লেখ থাকবে আমরা বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসি । কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের হারে তাদের দেশের একটি অংশের মানুষের পাশবিক উল্লাসে আমরা স্তম্ভিত, দুঃখিত এবং মর্মাহত । আমরা ভাবতেই পারছিনা, যে দেশ একদিন আমাদের দেশের অবিচ্ছিন্ন অংশ ছিল, যাদের ছাত্র ছাত্রীরা উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ্বভারতী, রবীন্দ্রভারতী সহ ভারতের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন, যাদের খাদ্য দ্রব্যের একটি বড় অংশ ভারত থেকে যায়, যারা কোনো করাল ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে ভারতের কলকাতা,ভেলোর সহ অন্যান্য শহরে আসেন চিকিৎসা করে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে, পাকিস্তানি আর্মিদের হাত থেকে মুক্তি দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির জন্ম যেখানে আমাদের হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধার প্রাণের বিনিময়ে হয়েছে, সেই দেশের একটি অংশের নাগরিকদের ভারতের উপর এত আক্রোশ এবং হিংসা আসে কোথা থেকে ? এখানে কি কোনো সাম্প্রদায়িক কারণ রয়েছে ? আমরা তো ভারতের পতাকাকে যতটা শ্রদ্ধা করি ততটাই শ্রদ্ধা করি বাংলাদেশের পতাকাকে । কিন্তু বাংলাদেশের পতাকার উদীয়মান সূর্যের লাল রঙটি বড্ড বেশি গাঢ় কারণ তাতে রয়েছে ভারতের মুক্তি যোদ্ধাদের মৃত শরীরের চাপ চাপ জমাটবাঁধা রক্ত । আমরা কখনোই বিশ্বাস করিনা সারা বাংলাদেশ এই রকম মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত । ওখানকার একটি অংশের মানুষ এই পাপটি করে চলেছে । কিন্তু তাদেরকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে  সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব অবশ্যই শুভবুদ্ধি সম্পন্ন বাংলাদেশ রাষ্ট্র পরিচলকদের নিতে হবে । আমরা কালো পতাকা দেখানো বা বই মেলা বয়কট করার মত ধ্বংসাত্মক রাজনীতি বিশ্বাস করিনা । আমরা চাই বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার সম্পর্ক বজায় থাকুক উভয়ের হৃদয়ে । আমরা বিশ্বাস করি একটি কাঁটা তারের বেড়া কখনোই একটি অভিন্ন হৃদয়কে আলাদা করতে পারেনা। আমরা শুধু ভারত নয়, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষদের পাশেও দাড়াতে পারি এবং ওনারা চাইলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে আমরা নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করতে পারি, কারণ আমাদের পার্টির সংবিধান তৈরি হয়েছে ভারত বিভাজনের আগে । আমরা ভারতবর্ষের বিভাজন আজও মন থেকে মেনে নিতে পারিনি। ভারতবাসীর মনের কষ্ট আমরা জানাতে যাচ্ছি বাংলাদেশ বইমেলায় এবং পরের দিন বাংলাদেশ হাইকমিশনে । সেখানে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের বন্ধুদের কাছে আমরা অবশ্যই মহুয়া মৈত্র বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলবো । তারপর শুরু হবে আমাদের মহুয়া মৈত্রের লোকসভা কেন্দ্র কৃষ্ণনগরের রাজনৈতিক কর্মসূচি। 

Post a Comment

0 Comments