মন্ত্রিত্বে রদবদল, কাটাতে পারবে সাগরদিঘির খরা? প্রশ্ন যেখানে হাওয়া বদলের

আসিফ রেজা আনসারী

রাজ্যে পালাবদলের সময় অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন আজকের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৎকালীন বিরোধীদলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের কর্মচারীদের বেতনের সামান্য পার্থক্য ছিল। অবশ্য ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ের জন্যেই এই তারতম্য ছিল। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন– যে সরকারের ডিএ (মহার্ঘ ভাতা) দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তাদের সরকারে থাকার নৈতিক যোগ্যতাও নেই। আর এখন কেন্দ্র–রাজ্যের কর্মীদের বেতনের মধ্যে আকাশ–পাতাল ফারাক তৈরি হয়েছে। প্রায় ৪০ শতাংশ ডিএ বকেয়া রয়েছে।অভিযোগ, এ নিয়ে আন্দোলন করতে গেলেই নেমে আসছে খাঁড়া। সম্প্রতি যে ধরনা ও ধর্মঘট হয়েছে, সেই আন্দোলনকারীদের বেতন কেটেছে রাজ্য। এইসব নিয়ে এমনিতেই জেরবার রাজ্য সরকার।তার মধ্যেই মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি বিধানসভার উপনির্বাচনে পরাজয় হয়েছে শাসকদল তৃণমূলের।জয়ী হয়েছেন কংগ্রেসের বায়রন বিশ্বাস। তারপরই রাজ্য–রাজনীতিতে জোর চর্চা চলছে, সংখ্যালঘু মনন নিয়ে। সংখ্যালঘুরা কী শাসকদলের থেকে মুখ ফেরাল নাকি অন্য কিছু!

এ দিকে পরাজয়ের ময়নাতদন্ত করতে টিম তৈরি করেছে তৃণমূল। সেই টিমে রয়েছেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি, সাবিনা ইয়াসমিন, আখরুজ্জামান ও গোলাম রব্বানিরা। তাতেও ড্যামেজ কন্ট্রোল হচ্ছে না! কেননা, আগেই আঁচ করা গিয়েছিল। অবশেষে অপসারিত হলেন রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী মুহাম্মদ গোলাম রব্বানি।


সূত্রের খবর, সোমবার ক্যাবিনেটে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজেই বর্তমানে দফতর দেখবেন বলে খবর। আর তাঁর ডেপুটি হিসাবে থাকবেন ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটি শিল্প এবং বস্ত্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেন।এ দিকে সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতর গেলেও উদ্যান পালন দফতর পাচ্ছেন গোলাম রব্বানি।যদিও সরকারিভাবে কিছুই জানানো হয়নি। জানা গিয়েছে, সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন দেখার জন্য বিশেষ পর্ষদ গঠন করবে রাজ্য সরকার। সেখানে কে হবেন পর্ষদের চেয়ারম্যান, তাও বলা হয়নি।

প্রসঙ্গত, মাদ্রাসায় বদলি, নিয়োগ ইত্যাদি বিষয়ে নানান অভিযোগ উঠছিল। সংখ্যালঘু দফতরের মন্ত্রীর কাছের মানুষদের সুযোগ­–সুবিধা দেওয়া হলেও যোগ্যরা নাকি বঞ্চিত হচ্ছিল। শুধু তাই ক'দিন আগেই নয়া বির্তকে জড়িয়েছেন তিনি। তাঁর নিজের জেলাতেই উন্নয়ন নিয়ে মন্ত্রীকে প্রশ্ন করায় এক যুবকের গ্রামে পুলিশ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য সেই যুবককে আশ্রয় দিয়েছেন ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রাক্তন বিধায়ক ও বর্তমান কংগ্রেস নেতা আলি ইমরান রামজ।

এখন প্রশ্ন হল মন্ত্রিসভায় বদল ঘটলেও সংখ্যালঘু মনের বদল হবে তো?কেননা, কংগ্রেস–বামেরা এটা বোঝাতে সফল হয়েছে  যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির পদাঙ্ক অনুসরণ করেই রাজ্য চালাচ্ছেন।এড়িয়ে যাচ্ছেন সংখ্যালঘুদের সমস্যা ও উন্নয়নের ইস্যুগুলিকে। নিয়োগ থেকে শুরু করে বরাদ্দ সবেতেই গলদ দেখছেন শিক্ষিত সংখ্যালঘুদের যুবসমাজ।বাম আমলে ওবিসি'র সংরক্ষণ বিধি চালু হয়েছিল কিন্তু নিয়োগ ও শিক্ষাক্ষেত্রে আরও তা কার্যকরী করছে না তৃণমূল সরকার।বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে গবেষণা এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু মুসলিমদের জায়গা দেওয়া হয় না। রাজ্যে সামান্য কিছু হিন্দি ও উর্দুভাষী রয়েছেন তাদেরই নানান সুযোগ–সুবিধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।৩০ শতাংশ মানুষ মুসলিম, অথচ তাদের বড় উৎসব ঈদে একটা দিন এক্সট্রা ছুটি নেই। কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখছেন– পুজোর সময় যেমন অনেক ছুটি থাকে তেমনি ঈদে কমপক্ষে ৩দিন করে ছুটি থাক। দূর–দূরান্ত থেকে যারা কলকাতায় পড়াশোনা বা চাকরি করে তারা কেউ বাড়িও ফিরতে পারে না ঈদে। সেইসব ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছে। স্কুলগুলিতে শিক্ষক আছে কিন্তু ছাত্র কমছে, আর কয়েকশত মাদ্রাসা– যেখানে মধ্যশিক্ষা দফতরের মতোই বিষয় ও সিলেবাসে পড়ানো হয়, সেখানে শিক্ষক নেই। মাদ্রাসাগুলিতে প্রচুর ছাত্রছাত্রী কিন্তু শিক্ষক নেই।মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন কিছুই করছে না।এমন হাজার হাজার অভিযোগ ফেসবুকে তুলছে সংখ্যালঘু যুবসমাজ। ফলে এটাই প্রশ্ন রোখা যাবে তো পতন, নাকি রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড় করিয়ে ভোট–বৈতরণী পার হবে তৃণমূল।যদিও সাংসদ তথা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, ২০১৮ সালের প্রত্যাবর্তন হবে না। ভোট হবে নিরপেক্ষভাবে।এখন সময় কথা বলবে.......

Post a Comment

0 Comments