আসিফ রেজা আনসারী
স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন
শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হয়েছেন। ইডির হাতে ধরা পড়েছে পার্থ
ঘনিষ্ট অর্পিতা। স্কুল সার্ভিস কমিশনেন প্রাক্তন দুই কর্তা এসপি সিনহা ও অশোক সাহাও
গ্রেফতার হয়েছেন। তারপর সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়েছেন বীবভূমের কেষ্ট ওরফে অনুব্রত
মণ্ডল।পার্থকে দল ও মন্ত্রিসভা থেকে ঝেড়ে ফেলা হলেও সসম্মানে রয়েছেন কেষ্ট। তাঁর
সমর্থনে দলের তরফে রাজ্যের সর্বত্রই মিছিল করছে তৃণমূল। যা নিয়ে অবশ্য কটাক্ষ করতে
ছাড়ছে না বিরোধী শিবির। এরই মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার কেষ্ট সম্পর্কে
বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরেই নানা মহলে প্রশ্ন
উঠতে শুরু করেছে। তাহলে কী দলে আরও কেষ্ট রয়েছে?
এ দিন বেহালায় দলের এক সভায় মমতার প্রশ্ন– অনুব্রতকে কেন গ্রেফতার করা হল? তারপরই বলেন, ‘‘একটা কেষ্টকে আটকে রাখলে, লক্ষ কেষ্ট আসবে। কেষ্টরা এজেন্সিকে ভয় পাবে না।’’
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অনুব্রত কিছুই চায় না। এমনকী তিনি রাজ্যসভায় পাঠাতে চাইলেও কেষ্ট রাজি হননি।মমতা কেষ্ট সম্পর্কে আরও বলেন, গত কয়েক বছর ধরে অনুব্রত নানা রকম শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। স্ত্রীকে হারিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ক্যানসার আক্রান্ত স্ত্রী নিজের চিকিৎসার সময়ে পাশে থাকার বদলে অনুব্রতকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের কাজে মন দিতে বলেছিলেন মমতা।
অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে গরু পাচার ও অবৈধ পথে টাকা রোজগারের অভিযোগ। আর তার সমর্থনেই মন্তব্য করছেন মুখ্যমন্ত্রী? উল্লেখ্য, দলের বক্তব্য এজেন্সিকে ভুল পথে চালিত করছে বিজেপি।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সিবিআই গ্রেফতার করে তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে। তারপর দলের তরফে অবশ্য সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। এবার প্রথমবার নিজেই মুখ খুললেন মমতা। এ দিন তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিধানসভা এলাকা বেহালা পশ্চিমে প্রাক্–স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ও কিছু চায়নি। সাংসদ, বিধায়ক কিছু হতে চায়নি। আমি ওকে রাজ্যসভায় পাঠাতে চেয়েছিলাম। ও রাজি হয়নি।’
একইসঙ্গে মমতা বলেন, ‘প্রতিবার নির্বাচনের সময়ে অনুব্রতকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। কেষ্টকে জেলে আটকে রাখলে কী হবে?’ তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, ‘ঝাড়খণ্ডেও সরকার ফেলার চক্রান্ত হয়েছিল। ১০ কোটি টাকা দিয়ে বিধায়ক কেনাবেচা চলছিল। হাতেনাতে ধরে ফেলেছি। তাঁর অভিযোগ, ‘বিজেপি আমায় ভয় পাচ্ছে। তাই সকাল থেকে কীভাবে আমার ইমেজ নষ্ট করবে তার চেষ্টা চালিয়ে যায়।'
0 Comments