বিশেষ প্রতিবেদন, বেঙ্গল মিররঃ চেয়েছিলেন নিজের ভাগ্নিপতির চাকরি হোক তাঁর মাদ্রাসায়। কিন্তু কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের চুক্তি অনুযায়ী বেসরকারি সংস্থার ওয়েবেল এর নিজস্ব শিক্ষিকা ঢুকলেন। সহ্য হল না ম্যানেজিং কমিটির সম্পাদকের। বিতর্কে জড়ালেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের সাথে। এমনকি বহিরাগতদের নিয়ে আক্রমণ করলেন। হ্যাঁ এমনটাই অভিযোগ । এরই প্রতিবাদে বিক্ষোভে সামিল পড়ুয়ারা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফিজ মণ্ডলকে নিগ্রহের প্রতিবাদে পড়ুয়ারা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল ক্লাস বয়কট করে পরে পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে। বিক্ষোভে শুধু পড়ুয়া নয় পড়ুয়াদের সঙ্গে সামিল অবিভাবকেরাও।
 |
| আক্রান্ত শিক্ষক |
উল্লেখ্য, দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিষ্ণুপুর থানার এনায়েতপুর এম আই হাই মাদ্রাসার ঘটনা। গত ২ তারিখ মাদ্রাসা বোর্ডের নির্দেশে ও রাজ্য সরকারের চুক্তি অনুযায়ী ১২ টি নতুন কম্পিউটার সহ একজন কম্পিউটার শিক্ষিকা পাঠানো হয় ওই মাদ্রাসায়। খবর যায় মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নইম মিস্ত্রির কাছে ॥তিনি নিযুক্ত করা যাবে না বলে হম্বিতম্বি করেন। এমনটাই অভিযোগ। প্রধান শিক্ষক অবশ্য বিয়োগ করেন ওই শিক্ষিকাকে। পরের দিন এই নিয়ে প্রধান শিক্ষক সঙ্গে বচসা শুরু হয় ম্যানেজিং কমিটির সম্পাদক এর সাথে। সেদিন প্রধান শিক্ষকের ঘরে সম্পাদকের ছেলে তাকে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ। তার চোখের নীচে আঘাত লাগে। এমনকি নইম মিস্ত্রি প্রধান শিক্ষকের প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেয় বলে অভিযোগ। প্রধান শিক্ষকের আরও অভিযোগ স্কুলে প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত হস্টেলের উদ্বোধনও করতে দিচ্ছেন সম্পাদক। স্কুলের মধ্যেই নইম ও তার অনুরাগীরা প্রধান শিক্ষককে নইমের পা ধরাতে বাধ্য করে। প্রধান শিক্ষক অবশেষে গত সাত তারিখ পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযুক্ত নইম অবশ্য সব অভিযোগ নাস্যাৎ করছেন।তার কথায়, জনসাধারণের রোষের মুখে পড়ে প্রধান শিক্ষক পা ধরে ক্ষমা চেয়েছেন।
 |
| অভিযোগ পত্র |
এলাকায় নইম খুব পরিচিত মুখ। তিনি চক এনায়েতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫ বছর প্রধান ছিলেন। তিনি বিষ্ণুপুর ২ নম্বর ব্লকের প্রাক্তন সহ সভাপতি ও ছিলেন। তিনি তৃণমূলের স্থানীয় নেতা। তৃণমূলের নেতা হয়েও দলের শিক্ষক সংগঠনের জেলা সভাপতি আবু সুফিয়ান অবশ্য এই কাজের নিন্দা করেছেন। অন্যদিকে বাম শিক্ষক সংগঠন এবিটিএ-র জেলা সম্পাদক কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। জেলার বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছেন। মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন কুমার মাইতির বলেন, একজন প্রধান শিক্ষক আক্রান্ত হচ্চে এটা মেনে নেওয়া যায় না।
ছবি সৌজন্যে : নিজজ ফ্রন্ট
0 Comments