বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের পুরসভাগুলির বকেয়া ভোট করাতে প্রশাসনিক তোড়জোড় শুরু করল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, কাল বুধবার বেলা ১১টায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসে সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এদিকে আগের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে কমিশন জানিয়েছে, ঝুলন্ত একাধিক আইনি মামলার কারণে বহু ইভিএম এবং সিসিটিভি ফুটেজ আটকে থাকায় অবিলম্বে ভোট ঘোষণার ক্ষেত্রে বড়সড় বাধা তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, এক আইনি জটিলতার মাঝেই ভোটের প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন। যে যে জেলায় পুর নির্বাচন বাকি রয়েছে, সেই সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের বুধবার বেলা ১১টায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রধান দফতরে জরুরি বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, পাঁচটি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, যার মধ্যে রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, বিধাননগর, দুর্গাপুর, শিলিগুড়ি। উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়ের কার্সিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর এবং ধূপগুড়ি। তাছাড়া বালি, ডোমকল, পূজালি, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, নদিয়ার কুপার্স ক্যাম্প এবং নলহাটি-সহ বেশ কয়েকটি পুরসভায় ভোট বাকি আছে।
এ দিকে কমিশন সূত্রের খবর, আইনি জট দ্রুত কাটিয়ে ইভিএম মুক্ত করা সম্ভব হলে তবেই জেলাশাসকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ভোটের চূড়ান্ত দিনক্ষণ চড়ান্ত করা সম্ভব হবে।মঙ্গলবার হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানায়, বর্তমানে রাজ্যে মোট ২৬টি নির্বাচনী মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এই মামলাগুলির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রচুর সংখ্যক ইভিএম এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সিসিটিভি ফুটেজ আইনি সংরক্ষণে রাখতে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে মামলাগুলি অমীমাংসিত পড়ে থাকায় পরবর্তী নির্বাচনের পরিকাঠামো সাজাতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। সামনেই বকেয়া পুরভোট, কিন্তু পর্যাপ্ত ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ না মিললে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে।
এ দিকে যাদের নাম ডিলিট হয়েছে তাদের কি হবে কেউ জানে না। রাজ্যের হাজার হাজার ভোটার কি ফের ভোট দিতে পারবে না ? এরই মধ্যে বেশ কিছু সামাজিক সংগঠন কাল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ডেপুটেশন জমা দেবেন। মৌলালি থেকে একটি মিছিল হবে বলেও খবর।

0 Comments