বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: বিরোধী দলনেতা নিয়ে দলের চিঠিতে জাল সই করার অভিযোগ ওঠে। এমনকি এ নিয়ে জলঘোলা হচ্ছে। এরই মধ্যে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ইতিমধ্যেই স্পিকার রথীন্দ্র বোসের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যদিও এই বহিষ্কার সত্ত্বেও ঋতব্রত এবং সন্দীপন— এই দু'জনেরই বিধানসভার সদস্যপদ আপাতত খোয়া যাচ্ছে না। তবে তাঁরা আর বিধানসভায় তৃণমূলের বিধায়ক হিসেবে গণ্য হবেন না বলে খবর।
জানা গিয়েছে, শাসকদলের অন্দরে বেশ কিছু দিন ধরেই বিক্ষুব্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের একটি জোট তৈরি হচ্ছিল, যার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দুই বিধায়ককে দল থেকে বের করে দিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব কার্যত সেই গজিয়ে ওঠা বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর ভিতটাই নাড়িয়ে দিতে চাইল বলে মনে করা হচ্ছে। দলের এই সিদ্ধান্তের ফলে দু'টি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, এর পরেও যদি তৃণমূলের অন্দরে সেই বিক্ষুব্ধ বিধায়ক গোষ্ঠী অস্তিত্ব বজায় রাখে, তাহলেও ঋতব্রত বা সন্দীপন আর তার রাশ নিজেদের হাতে রাখতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, এরপরেও যদি সেই বিক্ষুব্ধ বিধায়ক গোষ্ঠী থাকে, তাহলে তার নেতা ঋতব্রত বা সন্দীপন হতে পারবেন না। কারণ তাঁরা আর তৃণমূলের বিধায়কই রইলেন না। তৃণমূলের বিধায়ক গোষ্ঠীর নেতা তো আর বাইরের কেউ হবেন না।
অন্যদিকে, সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বিধানসভার ‘সই জাল-কাণ্ড’ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান, বিধানসভার এই সই জালিয়াতির ঘটনায় তৃণমূলের এই দুই বিধায়ক, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাই প্রথম স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী হিসেবে সই জালের মতো বিষয়টি তাঁর কাছে আসার পরই তিনি ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পদক্ষেপ করেন। এর নেপথ্যে থাকা প্রকৃত রহস্য ও অপরাধীদের টেনে বার করতে তিনি অবিলম্বে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা তথা সিআইডি-কে তদন্তপ্রক্রিয়ায় যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, নবান্নে যখন মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক শেষ করবেন করবেন করছেন, তখনই এই পদক্ষেপ করেছে ঘাসফুল শিবির। দুই বিধায়ককে তড়িঘড়ি দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ নিয়ে সন্দীপন সাহা সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা পক্ষপাতদুষ্ট কাজে নিজেদের যুক্ত করতে চাই না। আমরা ভয়হীন কাজ করতে চাই, এই শপথ নিয়েছি বিধানসভায়। তো যেখানে বিধানসভার আইন মানা হচ্ছে না, সেটা তো মাননীয় অধ্যক্ষের গোচরে আনা আমাদের কর্তব্য। আমরা সেই দায়িত্ব পালন করেছি। তারপর দল যা করতে চায় তাই করবে। দল যদি অনৈতিকতাকে, অন্যায়কে সমর্থন করে, করবে। এই জন্যেই তো দলের এই দুর্দশা।"

0 Comments