বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: এই বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেছিলেন, ‘রক্তবীজ পুঁতেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই । সেই বীজ সার জল পেয়ে গাছ হয়ে এবার দেখবেন নুয়ে পড়বে ওঁরই বাড়ির উঠোনে’। ৩০ বি হরিশ চট্টোপাধ্যায় স্ট্রিটের উঠোনের একদিকে একটা নিম গাছ রয়েছে। হলদেটে সবুজ নতুন পাতা গজিয়েছে তাতে। আর ডান দিকে একটা অনতিদীর্ঘ আম গাছে বেশ বড় মাপের কিছু আম ঝুলছে। সেই সব গাছের নীচে দেখা গেল, নীল জ্যাকেট পরা কিছু মানুষ ঘোরাফেরা করছেন। তাঁদের জ্যাকেটের পিঠে লেখা সিআইডি। অর্থাৎ ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিং টিম ঢুকে পড়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উঠোনে। মঙ্গলবার বিকেলে এই দৃশ্য সংবাদমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে, তখন তৃণমূলের অনেকেই বলতে চেয়েছেন, এ হল রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণতা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যতিব্যস্ত করতেই সিআইডি পাঠানো হয়েছে। সই জাল কাণ্ড নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির উঠোনে সিআইডি-র এত গোয়েন্দা ঢুকে পড়ার ঘটনা অনেকের কাছে আশ্চর্যের।
পাঁচ বছর আগের ঘটনা। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি হেরে গেছে। তবে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে বিরোধী দলনেতা করেছে বিজেপি। তার পর পরই ১৪ জুলাই (২০২১) তাঁর বাড়ি শান্তিকুঞ্জের সামনে পৌঁছে যায় সিআইডি-র বিশাল টিম। ২০২১ সালের তিন বছর আগে অর্থাৎ ১৩ অক্টোবর ২০১৮ সালে শুভেন্দুর বাড়ির সামনে পুলিশ ব্যারাকে মাথায় গুলি লেগে রহস্য মৃত্যু হয়েছিল তাঁর দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তীর। শুভেন্দু তখন ছিলেন তৃণমূলে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনার তিন বছর পর, অর্থাৎ বিধানসভা ভোটে বিজেপির হেরে যাওয়া ও নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে দেওয়ার পর হঠাৎ করে সেই তদন্তে নতুন উদ্যমে নেমেছিল সিআইডি। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “আমি তো আগেই বলেছি, রক্তবীজ যে পুঁতেছে একদিন তাকেই ভুগতে হবে। রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া, মিথ্যা মামলা সাজানো, গাঁজা কেস দেওয়া—এই সব পাপ যাবে কোথায়। এই জন্মেই প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।” অনেকেই আবার মনে করছেন, তৃণমূল জাল সই করে নিজেদের কাজের পরিচয় দিয়েছে। আর যাই হোক, নিজের অন্যায়ের ফল তো ভুগতেই হবে মনে করেন অনেকে।

0 Comments