বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: বিবাহবার্ষিকীর দিনটি হওয়ার কথা ছিল আনন্দ-উদযাপনের। কিন্তু সেই দিনটিই হয়ে উঠল এক তরুণী ও তাঁর অনাগত সন্তানের মৃত্যুদিন। পণের লালসায় এক নৃশংস উদাহরণ সামনে এল বিহারের গোপালগঞ্জ জেলায়। অভিযোগ, পণের দাবিতে এক তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। মৃতার নাম গুড়িয়া দেবী (২২)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছরখানেক আগে ২০২৫ সালের ৮ মে মণীশ কুঁয়ারের সঙ্গে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল গুড়িয়ার। মৃতার পরিবারের দাবি, বিয়ের সময় নিজেদের সাধ্যমতো পণ দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই গুড়িয়ার ওপর শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। মণীশ ও তাঁর বাড়ির লোকজনের দাবি ছিল, একটি ‘বুলেট’ মোটরসাইকেল এবং একটি সোনার হার দিতে হবে।
অভিযোগ, তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। শুক্রবার রাতে, যখন গুড়িয়া ও মণীশের প্রথম বিবাহবার্ষিকী ছিল, তখনই চরম নৃশংসতা চালায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। অভিযোগ, পণের দাবি পূরণ না হওয়ায় গুড়িয়াকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়।মর্মান্তিক ঘটনার সময় তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত স্বামী মণীশ কুঁয়ার এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চম্পট দেয়। পুলিশ গিয়ে ঘর থেকে গুড়িয়ার নিথর দেহটি উদ্ধার করে।
গোপালগঞ্জ পুলিশের আধিকারিক রাজেশ কুমার এই বিষয়ে জানিয়েছেন, “এক নববধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। প্রায় এক বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। আমাদের কাছে খবর এসেছিল যে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ পাওয়া গিয়েছে। ফরেনসিক টিমকে ডাকা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। নিহতের পরিবারের তরফে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলেই আমরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

0 Comments