বেঙ্গল মিরর ডেস্কঃ ”আমরা ভোটে হারিনি। আমি ইস্তফা দেব না”-বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পরে মঙ্গলবার, কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠক করে জানালেন তৃণমূল সভানেত্রী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এই সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে ফের একতিরে বিদ্ধ করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ”আমরা কিন্তু হারিনি। আমাদের ১০০ আসন লুঠ করা হয়েছে। আমাদের লড়তে হয়েছে বিজেপির সঙ্গে নয়। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে।”
এবারের ভোটে রাজ্যে পালাবদল। কিন্তু বিজেপির এই জয় বাংলার মানুষের রায় নয়- দাবি তৃণমূল সুপ্রিমোর। কালীঘাটের কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ”আমরা তো হারিনি। গণনায় সব কারচুপি হয়েছে। জোর করে এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ফর্ম ১৭সি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ওরা এমনি জিতলে আমার কিছু বলার থাকত না। নির্বাচনে তো হারজিত আছে। কিন্তু আমরা হারিনি। ইস্তফা কেন দেব? কেউ যদি জোর করে ইস্তফা দিতে, আমি বলব, না এটা হবে না। এখানে বিজেপির কথায় কমিশন খেলেছে সরাসরি।” মমতার অভিযোগ, ”আমাদের ১০০ আসন লুঠ করা হয়েছে। আমাদের লড়তে হয়েছে বিজেপির সঙ্গে নয়। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে। ভোটের পরে ইভিএম মেশিন চার্জড। দুটি পর্যায়ে নির্বাচন হওয়ার পরে আমাদের লোকজনকে গ্রেফতার করতে শুরু করে এবং আধিকারিকদের বদলি শুরু করে। নিজেদের পার্টি থেকে আমলা নিয়ে আসে। গট আপ নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির মধ্যদম।”
কমিশনকে নিশানা করে মমতা অভিযোগ করেন, সিআরপিএফ গুণ্ডার মতো আচরণ করেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী এরকম ব্যবহার করতে পারে, কোনওদিন ভাবতে পারিনি-দেখিনি। এই অত্যা চার যদি চলতে থাকে,তাহলে খুব শীঘ্রই ওদের মুখোশ খুলে যাবে। মঙ্গলবার গণনাকেন্দ্রের ভিতরের ঘটনা সম্পর্কে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ”কাউন্টিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি আমাকে পেটে মেরেছে। পিছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে। ধাক্কা দিতে দিতে মারতে মারতে বের করেছে। মহিলা হওয়ার পর আমার সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করেছে এবং অত্যাচার করেছে। আমি ঘুরে দাঁড়াব, বাঘের মতো লড়াই করেছি।”
ভোটের ফল ঘোষণার পরে দলীয় কর্মী ও কার্যালয়ের উপর হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তৃণমূল সভানেত্রী বলেন, ”বেলেঘাটাতে একজনকে মেরে ফেলেছে। মহিলাদের রেপের হুমকি দিচ্ছে। ভুল মেসেজ পৌঁছাচ্ছে বিশ্বের কাছে যে তোমরা গণতান্ত্রিক ভাবে লড়োনি। যদি আমার পার্টির লোকজনের উপর অত্যাচার করো, তাহলে পরে সেটি ফেরত পাবে। ওরা এমনি জিতলে আমার কোনও কথা বলার ছিল না। কিন্তু তোমরা জোর করে ক্যাফপচার করেছে।” দলনেত্রী জানান, ”দশ জনের একটা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি করেছি। যারা যেখানে যেখানে সমস্যা হয়েছে যাবে, দেখবে। আমার পার্টি হেড কোয়ার্টারেও হামলা করেছে। আমরা কিছু স্ট্র্যাটেজি নিচ্ছি । সংবাদ মাধ্যমকে জানাচ্ছি না।” মমতার অভিযোগ, ”ওরা অত্যাচার করছে। এমনকী তফশিলি জাতি উপজাতিদের ছাড়ছে না। ভাঙর থেকে বারাসত, কলকাতা থেকে শুরু করে জঙ্গল মহল — সর্বত্র বিজেপি অত্যাচার করে চলেছে।” নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ”আমি এখন পদে নেই । I am now free birds.আমি এক পয়সা বেতন নিইনি। আমি পুরো জীবনটাই মানুষকে উৎসর্গ করেছি।”
0 Comments