বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ অভিযোগ করেছেন, ভারতের নির্বাচন কমিশন ক্রমশ পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে উঠছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজ্যে কমিশনের পর্যবেক্ষকরা বিজেপি-র হয়ে 'সক্রিয়ভাবে প্রচার' চালাচ্ছেন। বেঙ্গালুরুতে 'অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস-কর্ণাটক' আয়োজিত সীমানা পুনর্নির্ধারণ, মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বিষয়ক এক সেমিনারে তিনি এই বক্তব্য রাখেন। তাঁর বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ ইঙ্গিত দেন যে, ভোটার তালিকার এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করে বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু ভোটারকে, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রবীণ আইনজীবী। তিনি জানান, বহুবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন বুথভিত্তিক ভোটার উপস্থিতি এবং ভোট গণনার বিস্তারিত তথ্য সংবলিত 'ফর্ম ১৭সি' এবং 'ফর্ম ২০'-এর তথ্য অনলাইনে আপলোড করে না। তিনি আরও যুক্তি দেন যে, সমস্ত ভিভিপিএটি স্লিপ গণনা করতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে তবুও তা করা হচ্ছে না।
সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ প্রশ্ন তোলেন, "ভিভিপিএটি স্লিপ গণনা না করা হলে আমরা কীভাবে জানব যে ইভিএম কারচুপি করা হচ্ছে না? " নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে ভূষণ বলেন, নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটি থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়ার জন্য আইন সংশোধন করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই নিয়োগ পদ্ধতি পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি 'প্রহসনে' পরিণত করেছে। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশন ধীরে ধীরে আরও বেশি পক্ষপাতদুষ্ট এবং কম নিরপেক্ষ হয়ে পড়েছে। সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিষয়ে ভূষণ সতর্ক করে বলেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের কারণে কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মতো দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব হারাতে পারে। তিনি যুক্তি দেন, এর ফলে সংসদের ক্ষমতার ভারসাম্য উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির দিকে ঝুঁকে যেতে পারে।

0 Comments