এসআইআর বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল ও মোদি-শাহর কুশপুত্তলিকাদাহ

বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: আগেই লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চ। কয়েকদিন লাগাতার কর্মূসূচি থাকবে বলে জানানো হয়েছিল। সেই মতো মঙ্গলবার বিকালে ছাত্র, যুব, শিক্ষক, অধ্যাপক ও সমাজকর্মীদের নিয়ে বিশাল মিছিল করল ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চ। যাদবপুরের ৮বি বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট পর্যন্ত এই বিশাল মিছিল বহু মানুষ যোগ দেন। এসআইআর বাতিল-সহ ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন করার দাবি এবং যাদের জন্য বহু মানুষকে ভোটাধিকার হারাতে হয়েছে, তাদের শাস্তির দাবিতে আওয়াজ তোলেন আন্দোলনকারীরা। 

এ দিনের মশাল মিছিল শেষ করে পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্টে মানববন্ধন হয় এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন আন্দোলনকারীরা। সবার প্রশ্ন, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের কোথাও এসআইআর নেই তারপরও কেন এই প্রক্রিয়া শুরু করা হল? দেশের প্রান্তিক মুসলিম, আদিবাসী ও দলিতদের নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে শক্তিশালী প্রতিবাদ হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।


এ দিনের মশাল মিছিলে উপস্থিত ছিলেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইফুল্লাহ শামীম, অধ্যাপক সাঈদ উল ইসলাম, অধ্যাপক নন্দিনী রায়, অধ্যাপক নিশা বিশ্বাস, সমাজকর্মী সাজিদুর রহমান, আইনজীবী আসিফ রেজা আনসারী, ফরিদুল ইসলাম, অধ্যাপক আবু সালেহ, ইয়াজ আহমেদ, জাহানারা খাতুন, সৌভিক মুখার্জি, আলমগীর মোল্লা, ঝিলাম রায়, আহিদ সরদার, জহিরুল মোল্লা, স্বপ্না, জিশান জাহিদ, সন্দ্বীপ আহমেদ, আকিব উমর, সালমান, মিরাজুল ইসলাম, ফিরোজ আলম, কাজী হাবিব, হুসেন রিজভী, নজরুল জমাদার সহ আরও অনেকে।

গত রবিবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চের তরফে জানানো হয়েছিল যে, যেহেতু ভোটার তালিকা সংশোধনী সম্পূর্ণ হয়নি, ট্রাইব্যুনালের কাজ শেষ হবে না নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, তাই জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২১ (২) ধারা অনুযায়ী এসআইআর বাতিল করে ২০২৫ এর ভোটার তালিকায় নির্বাচন করতে হবে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় যাদবপুর ৮বি থেকে পার্ক সার্কাস ধরনামঞ্চ পর্যন্ত একটি মশাল মিছিল হয়েছে।  ২২ এপ্রিল বিকেল ৫টায় পার্ক সার্কাস ময়দান থেকে রাজাবাজার একটি গণমিছিল হবে। এসআইআর-এ বাতিল হওয়া মানুষদের আহ্বান জানানো হয়েছে তারা যাতে ভোটাধিকারের দাবিতে বিডিও মারফত নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেন। বাংলার মানুষের প্রতি এই চরম অন্যায় বহাল রেখেই যদি লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাদ রেখেই নির্বাচন শুরু হয় তাহলে সমস্ত গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষদের কাছে আর্জি- ২৩ এপ্রিলকে কালাদিবস হিসেবে পালন করুন। কলকাতায় আগামী ২৩ এপ্রিল কালাদিবস পালন করতে পার্ক সার্কাস ধরনামঞ্চ থেকে একটি মানববন্ধন হবে।

Post a Comment

0 Comments