বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করেছিল, শুধু তাই নয় ট্রাইবুনালের রায়ের পরেও শেষপর্যন্ত ভোট দেওয়া হল না চিত্রকর নন্দলাল বসুর নাতি এবং তাঁর স্ত্রীর। বৃহস্পতিবার বোলপুরের একটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন বৃদ্ধ দম্পতি। কিন্তু জানা গিয়েছে, সেখানে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি তাঁরা। প্রাথমিকভাবে খবর, নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং তাঁর স্ত্রী দীপা সেনকে ওই বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জানান, ভোটার তালিকায় দু’জনেরই নাম নেই। বৃদ্ধ দম্পতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের অংশটি দেখালে সেটির মুদ্রিত অংশ দিতে বলা হয়। সেটা করার পরেও সুপ্রবুদ্ধ এবং দীপা ভোট দিতে পারেননি। অভিযোগ, তাঁদের বলা হয় সিউড়িতে জেলাশাসকের দফতর থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। বৃদ্ধ দম্পতি বোলপুর থেকে আর সিউড়ি যাওয়ার ধকল নিতে চাননি। ভোট না-দিয়েই ফিরে যান তাঁরা।
কিছুদিন আগে খবর হয়েছিল যে, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে চিত্রকর নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ এবং তাঁর স্ত্রী দীপার। ট্রাইবুনালে নাম তোলার আর্জি জানিয়েছিলেন অশীতিপর এই দম্পতি। এপ্রিলের গোড়ায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়, নন্দলাল বসুর নাতির করা আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। কিন্তু ভোট দেওয়া হল না বলে খবর।
প্রসঙ্গত, এসআইআর পর্ব শুরু হওয়ার পর শুনানিতে ওই দম্পতিকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে খবর, সেই সময় শুনানিতে হাজিরা দিয়ে যাবতীয় নথি জমা করে এসেছিলেন সুপ্রবুদ্ধরা। যদিও পরে যখন এসআইআরের তালিকা প্রকাশ হয়, তখন দেখা যায় ওই দম্পতির নাম রয়েছে বিবেচনাধীন ভোটারদের তালিকায়। বিচারকেরা সেই তালিকায় থাকা ভোটারদের তথ্য নিষ্পত্তি করছেন। দেখা যায়, সুপ্রবুদ্ধ এবং তাঁর স্ত্রীর নাম জায়গা পায়নি ভোটার তালিকায়। তার পর তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শীর্ষ আদালত ট্রাইবুনালকে প্রবুদ্ধদের আবেদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়। তার পর অবশ্য ট্রাইবুনালের নির্দেশে ওই বৃদ্ধ দম্পতির নাম ভোটার তালিকায় উঠেছে বলে জানা গিয়েছিল। কিন্তু এত কিছুর পরও ভোট দিতে পারলেন না তাঁরা।

0 Comments