জাহানারা খাতুন
এবার লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দিল ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চ। আগামী কয়েকদিন লাগাতার কর্মূসূচি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। রবিবার বিকেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, ৪ঠা মার্চ থেকে চলা ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চের এসআইআর বিরোধী ধরনার ৪৭ দিন পার হয়েছে। ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চের সাথে অন্যান্য সংগঠন এবং সাথীরাও আছেন। এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের জেরেই সুপ্রিম কোর্ট মানুষের এই ন্যায্য ক্ষোভ প্রশমিত করতেই বাধ্য হয়েছে ঘোষণা করতে যে, ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল, দুই পর্যায় নির্বাচনের ক্ষেত্রে, ২১ এবং ২৭ তারিখ অবধি ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া সমস্ত মানুষকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে। এই রায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিকদল নিজ নিজ আন্দোলনের জয় জানিয়ে যারপরনাই খুশি হলেও, আমরা এতটা খুশি প্রকাশ করে উঠতে পারছিনা। এই রায়ে ঘোষণার পর থেকে প্রথম পর্যায়ের নির্বাচনে মাত্র ৩ দিন বাকি। দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্ষেত্রে আরও ৫-৬ দিন। এই কয়েকদিনে ট্রাইব্যুনালে দায়িত্বপ্রাপ্ত সমস্ত আধিকারিক সম্পূর্ণ নিষ্ঠাভরে কাজ করলেও কয়েক হাজার মানুষ ব্যতীত বাকিদের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করা অসম্ভব।
আরো বলা হয়েছে, বিহার থেকে আসা বিজেপি নেতা প্রার্থী প্রচারে বেরিয়ে হুঙ্কার দিয়েছেন বিহারে ৩৫ লক্ষ মানুষ যাঁরা এসআইআর-এ বাদ পড়েছেন, তাঁদের রেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বাংলার মানুষদেরও একই পরিণতি হবে। এগুলো আসলে সংবিধান ও গণতন্ত্রকে শেষ করার চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেন আন্দোলনকারীরা।
সাংবাদিক সম্মেলন থেকে বলা হয়েছে, বাংলার সমস্ত গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষকে আবেদন জানাচ্ছি, আপনারা আইন মেনে রাস্তায় নামুন! যেহেতু ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ হয়নি, ট্রাইব্যুনালের কাজ শেষ হবে না নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, তাই জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২১ (২) ধারা অনুযায়ী এসআইআর বাতিল করে ২০২৫ এর ভোটার তালিকায় নির্বাচন করতে হবে বলে দাবি জানান। আগামী কর্মূসূচি নিয়ে বলা হয়েছে, আগামী ২১শে এপ্রিল রাজ্যজুড়ে একই সময় প্রতিবাদ কর্মসূচি হবে। কলকাতায় বিকেল ৫টায় যাদবপুর ৮বি থেকে পার্ক সার্কাস ধরনামঞ্চ পর্যন্ত একটি মশাল মিছিল হবে। যাঁরা কলকাতা আসতে পারবেন না, তাঁরা নিজের নিজের জেলায় একই সময় প্রতিবাদ সংগঠিত করুন বলেও আহ্বান জানানো হয়। ২২শে এপ্রিল বিকেল ৫টায় পার্ক সার্কাস ময়দান থেকে রাজাবাজার একটি গণমিছিল হবে। এসআইআর-এ বাতিল হওয়া মানুষদের আহ্বান জানানো হয়েছে তারা যাতে ভোটাধিকারের দাবিতে বিডিও মারফত নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেন। বাংলার মানুষের প্রতি এই চরম অন্যায় বহাল রেখেই যদি লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাদ রেখেই নির্বাচন শুরু হয় তাহলে সমস্ত গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষদের কাছে আর্জি- ২৩ এপ্রিলকে কালাদিবস হিসেবে পালন করুন। কলকাতায় আগামী ২৩শে এপ্রিল কালাদিবস পালন করতে পার্ক সার্কাস ধরনামঞ্চ থেকে একটি মানববন্ধন হবে।
0 Comments