টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে স্টেশনে ডাস্টবিন দিল কৃষ্ণচন্দ্রপুরের পড়ুয়ারা

আসিফ রেজা আনসারীঃ
দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছ ভারতের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। মাঝে মাঝে ক্যামেরার সামনেও আসেন। বিভিন্ন রেল স্টেশনে বিভিন্ন প্রচার পোস্টার থেকে শুরু করে ডাস্টবিনও বসেছে। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মথুরাপুর আছে সেই তিমিরেই। এলাকার নিত্যযাত্রীদের তরফে স্টেশন মাস্টার সুধাংশু শেখর দত্ত কে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
        প্রসঙ্গত 'নোংরা যেখানে সেখানে ফেলবেন না' পোস্টার থাকলেও স্টেশনে একটিও ডাস্টবিন ছিল না।স্বচ্ছ ভারত অভিযানের ন্যূনতম জরুরি বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল এতদিন। রেল কোনো ব্যবস্থা না নিলেও পথ গান্ধীগিরি দেখাল কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলের পড়ুয়ারা। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বদান্যতায় স্কুলের জাতীয় সেবা প্রকল্পের (এনএসএস) ও এনসিসি-র ছাত্রছাত্রীরা তাদের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে সারা স্টেশন চত্বরে স্থায়ী ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করল সম্প্রতি। আর এই কাজে মুখ্য ভূমিকা পালন করে যারা হয়ে উঠেছে উজ্জ্বল মুখ তারা হলেন সুব্রিতা ভান্ডারী, সুমন মন্ডল, রাজা শেখ, সায়ান্তিকা প্রামাণিক। এরা কেউ নবম শ্রেণির তো কেউ একাদশ বা দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া।
         উল্লেখ্য গতকাল মঙ্গলবার আপ ও ডাউন দুই প্লাটফর্ম মিলিয়ে মোট বারটি ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করে ওরা। যা শুধু অভাবনীয় নয় বরং ঈর্ষান্মিত বটে বলেছেন এলাকার বাসিন্দা থেকে নিত্যযাত্রীরা। এক কলেজ শিক্ষক তো বললেই ফেললেন, "আমরা হাজার হাজার নিত্যযাত্রী গর্বিত এদের কাজে।"
         অন্যদিকে যার উৎসাহ ও উদ্দীপনায় এই আয়োজন অর্থাৎ কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন কুমার মাইতির কথায়, আমার স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের এই কাজ স্বচ্ছ ভারত অভিযান ও নির্মল বাংলা গঠনে একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র। তাঁর কথায়, রেল মুখে নানান প্রতিশ্রুতি দিলেও যাত্রী পরিষেবার মান তেমন উন্নত হয়নি। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে এসইউসিআই ওর পক্ষ থেকে শিয়ালদহ ডিআরএম এর কাছে বিভিন্ন দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
ছবি : নিজস্ব

Post a Comment

0 Comments