নায়ক: দু'লাখের লোকসান করে ব্যবসার গদি এনে রাস্তায় বিছিয়েছিলেন আরমান-রিয়াজুদ্দিন

বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: বিপদের সময় মানুষের পাশে থাকা দরকার।  এটাই নিয়ম।  আর তাই করে হিরো বেশ কয়েকজন যুবক। 'ফ্লারিশ স্টে' হোটেলের উল্টোদিকেই চার দশকের গদির দোকান রিয়াজুদ্দিনের। বুধবারের সেই অভিশপ্ত সকালে তখন আগুনের কবল থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে হোটেল থেকে বেরনোর জন্য মানুষ ছটফট করছেন, ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সেই মুহূর্তে ব্যবসার ক্ষতির কথা মাথাতেও আসেনি রিয়াজুদ্দিন মনসুরি এবং তাঁর ছেলে আরমানের। দোতলা থেকে যাঁরা প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপ দিচ্ছিলেন, তাঁরা যেন পাথুরে রাস্তায় পড়ে প্রাণ না হারান, তাই নির্দ্বিধায় দোকান থেকে একের পর এক বার করে দিয়েছিলেন নতুন গদি, বিছিয়ে দিয়েছিলেন রাস্তায়। জানা গিয়েছে, ২০ থেকে ২২টি নতুন গদি তাঁরা অবলীলায় দোকান থেকে বার করে দিয়েছিলেন, তা প্রায় দু'লক্ষ টাকার মাল ছিল। কিন্তু ওই প্রাণগুলো বাঁচানোর প্রসঙ্গ আসতেই ব্যবসা-টাকা-লোকসান সব কিছুর কথা মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল তাঁদের।


দিল্লির মালব্য নগরের হৌজ রানি এলাকার সেই অভিশপ্ত হোটেল যখন আগুনের গোল্লায় পরিণত হয়েছে, তখন জানলা দিয়ে ঝাঁপ দেওয়া ছাড়া আবাসিকদের কাছে কোনও পথ খোলা ছিল না। চারদিকে যখন শুধু বাঁচার আকুতি আর আর্তনাদ - ঠিক তখনই যেন এক দেবদূতের মতো হাজির হয়েছিলেন রিয়াজুদ্দিন এবং আরমান। সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থাকে আরমান জানান, ''সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ এক প্রতিবেশীর থেকে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছই। দেখছিলাম গ্রাউন্ড ফ্লোর দাউদাউ করে জ্বলছে। কেউ ভিতরে যেতে বা বেরতে পারছেন না। দোতলা থেকে সকলে প্রাণভয়ে চিৎকার করছেন, ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমি কিছু না ভেবে তাড়াতাড়ি দোকান থেকে ২০ থেকে ২৫টা গদি আর কম্বল এনে বিল্ডিংয়ের সামনে বিছিয়ে দিই।'' আরো জানান , ''প্রায় দু'লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা দোকান থেকে চাদর এনেছিলাম মৃত এবং আহতদের বার করে আনার জন্য। কম্বলের কভারও আনি তারপর। হাতের সামনে যা পেয়েছি, দোকান থেকে তুলে এনেছি। মাথায় আসেনি তখন কে হিন্দু, কে মুসলিম। শুধু জানতাম আমরা সবাই ভারতীয়। আমার দায়িত্ব ওদের বাঁচানো সে মুসলিমই হন বা হিন্দু,'' অবলীলায় বলে ওঠেন রিয়াজুদ্দিন।

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একথা ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা দাবি তুলেছেন, রিয়াজুদ্দিনের এই নিঃস্বার্থ অবদান এবং তাঁর ব্যবসার বিপুল ক্ষতির কথা মাথায় রেখে সরকার থেকে তাঁকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। এক নেটিজেন এই ঘটনার কথা তুলে ধরে লিখেছেন, “এই গদি দোকানের মালিক কোনও স্বার্থ ছাড়াই একেবারে অচেনা কিছু মানুষের প্রাণ বাঁচাতে নিজের সবটুকু বিলিয়ে দিলেন। তিনি জানতেন এই গদিগুলোর দাম কেউ মিটিয়ে দেবে না। সরকারের উচিত ওঁর এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া।”। 

Post a Comment

0 Comments