বেঙ্গল মিরর ডেস্কঃ শনিবার ব্রিগেডের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ থেকে জোড়াসাঁকোয় কবিপ্রণাম - পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম দিনের প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজভবন বা মহাকরণের অলিন্দে নয়, বরং বাংলার মানুষের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় শুভেন্দু স্পষ্ট করে দিলেন, তিনি কেবল একটি দলের নন, বরং রাজ্যের প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মুখ্যমন্ত্রী হতে চান। তাঁর চিরাচরিত ‘কথা কম, কাজ বেশি’ মন্ত্রের প্রতিফলন ঘটিয়ে তিনি এবার রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে বিরোধী দলগুলির সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করলেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “নরেন্দ্র মোদী বাংলার জন্য যে সংকল্প নিয়েছেন, তা আমাদের পূরণ করতেই হবে। তবে এই বিশাল কাজ একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।” অত্যন্ত নজিরবিহীনভাবে তিনি রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, “বাংলা যাতে বরবাদ না হয়ে যায়, তার জন্য আমাদের একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। সরকার চালাতে গেলে সবার মত ও পরামর্শের প্রয়োজন আছে। তাই ব্যক্তিগত বিরোধ ভুলে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করাই শ্রেয়, যাতে বাংলার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।”
এ দিন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে রবি ঠাকুরকে প্রণাম জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমি এখন মুখ্যমন্ত্রী। আমি এখন সকলের। আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক।” তাঁর এই বক্তব্যে একদিকে যেমন প্রশাসনিক গাম্ভীর্য ছিল, তেমনই ছিল প্রবীণ ও নবীন - সব রাজনৈতিক মতাদর্শকে সঙ্গে নিয়ে চলার এক উদার মানসিকতা।

0 Comments