কাউন্সেলিং ছাড়াই সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক নিয়োগ, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন বহু সংগঠনের

বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করার পর সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগের সুযোগ পান যোগ্যতাসম্পন্ন চিকিৎসকরা। এ সংক্রান্ত একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে গতকাল। তারপরেই বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠনের অভিযোগ, কোনও কাউন্সিলিং ছাড়াই পোস্টিং নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিষয়টিকে বেআইনি এবং স্বজনপোষ বলেও অভিযোগ করছেন অনেকেই। অনেকেই বলছেন, প্রায় হাজার জন চিকিৎসক নিযুক্তির সুযোগ পেয়েছেন। এদের বহু এমন আছেন যারা বাড়ির কাছাকাছি পোস্টিং পেয়েছেন। কিন্তু অনেকে আবার বহু দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে এটা করা হলে একজন প্রার্থীর নিজস্ব পছন্দ যেমন গুরুত্ব পেত, একইসঙ্গে যোগ্যতামান অনুসারে পোস্টিং হলে ভালো হতো বলেও মন্তব্য করছেন বহু চিকিৎসা। 

এ নিয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ডাক্তার মানস কুমার ঘুমটা বলেন, খুব খারাপ হলো। এটা অন্যায়। অনৈতিক। চূড়ান্ত স্বজনপোষণ ও অস্বচ্ছ নিয়োগ। কাউন্সেলিং না করে কিসের ভিত্তিতে কাউকে মেডিক্যাল কলেজে আর বাকিদের জেলায় পোস্টিং দেওয়া হলো। একটা হাউসস্টাফ নিয়োগেও যেখানে কাউন্সেলিং হয় সেটা সিনিয়র রেসিডেন্ট নিয়োগে বন্ধ কেন হয়ে গেল? ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী মেডিক্যাল এডুকেশনে ঢুকতে গেলে মেডিক্যাল কলেজে এক বছর সিনিয়র রেসিডেন্সি অপরিহার্য। যাদের জেলায় পোস্টিং হলো তারা আর কোনোদিন মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিসে ঢুকতে পারবে না। তাঁদের সেই পথ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হলো। অন্যদিকে জেলায় স্থায়ী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ না করে কেন বন্ড চিকিৎসক দিয়ে চালানো হবে? স্বাস্থ্য প্রশাসন  জুনিয়র ডাক্তারদের উপর প্রতিহিংসা রূপায়ণ করছে কিনা এই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে?"

ফাইল ছবি 

অন্যদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টারের রাজ্য কমিটির সম্পাদক ডাঃ বিপ্লব চন্দ্র এক বিবৃতিতে বলেন," আজ স্বাস্থ্যভবন  যেভাবে পোস্টিংএর নোটিশ দিয়ে সিনিয়র রেসিডেন্টদের ভারতীয় সংবিধান প্রদত্ত সাম্যের অধিকার খর্ব করেছে, তার আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি যখন নতুন করে  স্ট্যান্ডার্ড  অপারেটিং প্রসিডিওর প্রকাশিত হলো তখনই আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম যে এস আর পোস্টিং মেডিকেল শিক্ষার অঙ্গ, ফলে প্রতিবছরের মত মেধার ভিত্তিতে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমেই  সিনিয়র রেসিডেন্টদের বন্ড পোষ্টিং দিতে হবে। কোনোভাবেই চুক্তিভিত্তিক(!) নিয়োগের নামে বিশৃঙ্খল ভাবে পোস্টিং দেওয়া যাবে না। অথচ আমরা দেখছি কিছু চিকিৎসক কে মেডিকেল কলেজে পোস্টিং, কিছু চিকিৎসক কে জেলা হাসপাতালে বা মহকুমা হাসপাতালে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। ফলে সিনিয়র রেসিডেন্টরা ভেদাভেদের শিকার হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনোভাবেই আইনানুগ নয়।আমরা আশঙ্কা করছি এই বেআইনি নোটিশের পিছনে ভয়ানক দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও আর্থিক লেনদেন এর মতন বিষয় যুক্ত থাকতে পারে। আমরা এও আশঙ্কা করছি যে কিছু চিকিৎসক তিনবছরের মধ্যে মেডিকেল কলেজ পোস্টিং নাও পেতে পারে। কারণ চিকিৎসকদের ট্রান্সফারের বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা এই নোটিশে নেই । এর ফলে কোন কোন সিনিয়র রেসিডেন্ট হয়তো অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসাবে মেডিকেল এডুকেশনে কোনদিন সুযোগই পাবেন না। আমরা অবিলম্বে স্বাস্থ্যদপ্তরের এহেন অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী ও বেআইনি বন্ড পোস্টিং-এর  নোটিফিকেশন প্রত্যাহার করার দাবী জানাই। এবং অবিলম্বে মেধার ভিত্তিতে কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে সিনিয়র রেসিডেন্টদের বন্ড পোস্টিং দিতে হবে। সাথে সাথে সমগ্র চিকিৎসক সমাজকে সরকারের  বেআইনি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন ও আইনি লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আবেদন জানাই"

Post a Comment

0 Comments