বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য মঞ্চের আয়োজনে শূন্য বৈষম্য দিবস উদযাপন ও ‘জীবনানন্দ স্মৃতি সম্মান’ প্রদান অনুষ্ঠান হয় কলকাতার কৃষ্ণপদ মেমোরিয়াল হল। পহেলা মার্চ পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য মঞ্চ –এর উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য সাহিত্য ও বসন্ত উৎসব হয়। একইসঙ্গে পালিত হয় ‘শূন্য বৈষম্য দিবস’। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সচেতনতার এক অনন্য সমন্বয় ছিল এ দিনের মূল আকর্ষণ। অনুষ্ঠানের সূচনায় গাছে জল দিয়ে শুভ উদ্বোধন করা হয়। পরে কাঁঠাল পাতার ব্যাচ পরিয়ে অতিথি ও কবিদের অভিনব সম্মাননা জানানো হয়।
এই অনুষ্ঠানে চন্দ্রনাথ বসু সম্পাদিত কাব্যগ্রন্থ “বাসন্তিকা” এবং সাহিত্য সৈকত পাঠকের “সাঁঝবাতির কবিতারা” – র মোড়ক উন্মোচন হয়। আবৃত্তি, লেখক ও শিল্পী সংবর্ধনা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুই বাংলার বিশিষ্ট কবি আরণ্যক বসু, ড. সিরাজুল ইসলাম ঢালী, সাংবাদিক ও ভাষা শ্রমিক আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ। আরণ্যক বসু তাঁর বক্তব্যে বিশ্ব রাজনীতির হানাহানি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে শান্তির বার্তা দেন। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত ছিল ‘জীবনানন্দ স্মৃতি সম্মান’ প্রদান। এই সম্মানে ভূষিত হন বিশিষ্ট কবি সেখ মঈনুল হক। তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন ড. সিরাজুল ইসলাম ঢালী ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
শতাধিক কবির অংশগ্রহণে আয়োজিত কবিতা প্রতিযোগিতায় বিচারক মণ্ডলীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ১০ জন কবিকে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। তাঁদের মধ্যে সেখ মঈনুল হক – এর “সেই বসন্ত” কবিতাটি বিশেষভাবে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়। সাহিত্য, মানবিকতা ও সামাজিক সাম্যের বার্তায় সমৃদ্ধ এই অনুষ্ঠান উপস্থিত সকলের মনে গভীর ছাপ রেখে যায়।

0 Comments